নতুন ভোটারদের নাম তোলার আবেদনপত্র ‘ফর্ম ৬’-এ পরিবর্তনকে ‘বেআইনি’ ও ‘অননুমোদিত’ বলে আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। যোগ্য তরুণদের ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হতে গিয়ে হয়রানির মুখে পড়া ঠেকাতে পরিবর্তনটি প্রত্যাহারের দাবিও ওঠে। কিন্তু আপত্তি উপেক্ষিত হয়।
গত ১৬ মে জোশী জানান, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের জন্য তৈরি আবেদনপত্র এবং বিধিবদ্ধ ফর্ম এক জিনিস নয়। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের নির্দেশ দিয়ে আইননির্ধারিত ফর্ম ৬ কিংবা সংশোধনের আবেদনপত্র ফর্ম ৮ বদলানো যায় না। প্রয়োজন ১৯৬০ সালের ভোটার নথিভুক্তিকরণ বিধির সংশোধন। তাঁর প্রস্তাব ছিল, পরিবর্তনের খসড়া কমিশনের সামনে এনে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হোক। ১৯ মে সান্ধু এই অবস্থানে সহমত জানান।
পরে ১৩ আগস্ট সান্ধু ফের লেখেন, দুই কমিশনারের স্পষ্ট মত থাকা সত্ত্বেও অনলাইনের আবেদনপত্রে অননুমোদিত পরিবর্তন রয়ে গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপনির্বাচন কমিশনার এবং তথ্যপ্রযুক্তির দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালককে পাঠানো নোটের অনুলিপি দেওয়া হয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও জোশীকে। সান্ধু দ্রুত পুরনো ফর্ম ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করেন, যাতে প্রথমবার ভোটার হতে চাওয়া যোগ্য তরুণেরা বাধাহীনভাবে আবেদন করতে পারেন।
কমিশনের ইসিআইনেট ব্যবস্থায় ফর্ম ৬ পূরণের সময় আবেদনকারীকে তিনটি বিকল্পের একটি বেছে নিতে হচ্ছিল: আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ভোটার তালিকায় নিজের নাম আছে; বাবা, মা, ঠাকুরদা বা ঠাকুরমার নাম আছে; অথবা নিজের কিংবা বাবা-মায়ের নাম নেই। বাধ্যতামূলক বলে চিহ্নিত না হলেও উত্তর না দিয়ে আবেদন জমার পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাচ্ছিল না।
প্রথম দুটি বিকল্প বাছলে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্র, বুথ এবং তালিকায় নামের ক্রমিক নম্বর চাওয়া হচ্ছিল। তথ্য খুঁজে না পেলে তৃতীয় বিকল্পটি বেছে নেওয়ার পথ থাকলেও তার পরিণতি কী, তা জানানো হয়নি। একই ব্যবস্থায় নামিয়ে নেওয়ার জন্য রাখা ছাপার উপযোগী ফর্মে আবার এই বাড়তি ঘোষণার অংশ ছিল না। অর্থাৎ, অনলাইনে আবেদনকারীকে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছিল, যা কাগজের আবেদনপত্রে অনুপস্থিত। জুলাইয়ের সেই প্রতিবেদনে এই অসংগতিও তুলে ধরা হয়েছিল।
কমিশনের প্রকাশিত ফর্ম ৬ দেখলে পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়। সেখানে আবেদনকারীর জন্মতারিখ, বয়সের প্রমাণ, বর্তমান বাসস্থানের ঠিকানা এবং তার সমর্থনে নথি চাওয়া হয়েছে। একই ঠিকানায় বসবাসকারী, ইতিমধ্যে ভোটার তালিকাভুক্ত পরিবারের সদস্যের নাম, সম্পর্ক ও ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বর দেওয়ার জায়গাও রয়েছে। ঘোষণায় আবেদনকারীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব, সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় সাধারণভাবে বসবাস এবং অন্য কোনও কেন্দ্রে নাম নথিভুক্ত না থাকার কথা জানাতে হয়। কিন্তু পূর্ববর্তী বিশেষ সংশোধনে বাবা-মা বা পূর্বপুরুষের নাম ছিল কি না, সেই তিন বিকল্পের প্রশ্ন এই প্রকাশিত ফর্মে নেই।
১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২৮ ধারায় কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে বিধি তৈরির ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তন সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানাতে হয় এবং বিধি সংসদের উভয় কক্ষের সামনে পেশ করার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফর্ম ৬ ওই বিধির অংশ হওয়ায় তার পরিবর্তনেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রশ্ন আসে।
নতুন ব্যবস্থার প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তাও এখানেই। সদ্য আঠারো হওয়া আবেদনকারীর পরিবারের পুরনো তথ্য না মিললে তাঁর আবেদনে বাড়তি যাচাই হবে কি না, জুলাইয়ের ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তা পরিষ্কার ছিল না। পরিবর্তন কবে চালু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সংবাদপত্রের প্রশ্নের উত্তরও তখন দেয়নি কমিশন। ফলে আবেদনকারীর কাছে তথ্য চাওয়ার পাশাপাশি সেই তথ্য না দিতে পারলে কী হবে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাবও সামনে আসে।