লগইনসদস্যতালেখক
হোম›আন্তর্জাতিক›মধ্যপ্রাচ্য›হরমুজে ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, হামলার মুখে বাণিজ্যিক জাহাজ
মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজে ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, হামলার মুখে বাণিজ্যিক জাহাজ

বাংলাস্ফিয়ার: হরমুজ প্রণালী ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। হামলার মুখে পড়া একটি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে এক ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রক…

হরমুজে ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, হামলার মুখে বাণিজ্যিক জাহাজ

বাংলাস্ফিয়ার: হরমুজ প্রণালী ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। হামলার মুখে পড়া একটি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে এক ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ) রবিবার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই ধরনের আক্রমণের তীব্র নিন্দা করছে ভারত।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, হামলার পর থেকে এক ভারতীয় নাবিকের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসন, জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভারতের দূতাবাসগুলি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। নিখোঁজ নাবিকের সন্ধান এবং অন্যান্য ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ভারত সরকার জানিয়েছে, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং নৌপরিবহণের স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। এই অঞ্চলে সংঘাত বা হামলা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকারি সূত্রের খবর, হামলার সময় জাহাজে একাধিক ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। তাঁদের অধিকাংশ নিরাপদ থাকলেও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান চলছে। সমুদ্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে উঠেছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস অতিরিক্ত সহায়তা দেবে। প্রয়োজনে নাবিকদের পরিবারগুলির সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ যাতায়াত করে। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, জাহাজ চলাচল এবং বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় সতর্কবার্তা। যুদ্ধরত পক্ষগুলির সংঘর্ষে নিরপেক্ষ বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বিপর্যস্ত হতে পারে। ভারত, যার জ্বালানি আমদানির বড় অংশ পশ্চিম এশিয়ার উপর নির্ভরশীল, পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে।

ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে সংযম, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার পক্ষে সওয়াল করে আসছে। সর্বশেষ ঘটনাতেও বিদেশ মন্ত্রক সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে এবং বেসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে।

এদিকে, নিখোঁজ ভারতীয় নাবিকের সন্ধানে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। তাঁর পরিচয় সরকারিভাবে এখনও প্রকাশ করা হয়নি। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিবারকে নিয়মিত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে এবং নতুন কোনও তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

হরমুজে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সামরিক উত্তেজনার সবচেয়ে বড় মূল্য অনেক সময় চোকাতে হয় নিরস্ত্র বেসামরিক নাবিকদেরই। ভারত সরকার তাই একদিকে যেমন নিখোঁজ নাবিককে উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

পাঠকের মন্তব্য ০

শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।

এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।