ই-বই পড়া কি শুধু পাতা উল্টে তথ্য নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে? গুগলের নতুন উদ্যোগ বলছে, না। এ বার বইয়ের সঙ্গেই প্রশ্নোত্তর করা যাবে, নির্দিষ্ট অংশের ব্যাখ্যা চাওয়া যাবে, এমনকি বইয়ের তথ্য থেকে তৈরি করা যাবে নানা ধরনের উপকরণও। গুগল জেমিনি নোটবুকে চালু হয়েছে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর সুবিধা ‘এক্সপার্ট ইন্টেলিজেন্স’।
এই ব্যবস্থায় গুগল প্লে বুকস থেকে কেনা নির্বাচিত ই-বই সরাসরি জেমিনি নোটবুকে যোগ করা যাবে। বইটি নোটবুকে ঢুকে গেলে সেটিকে কার্যত একটি ব্যক্তিগত গবেষণা-সহকারীর মতো ব্যবহার করতে পারবেন পাঠক।
কোনও বিষয় বুঝতে সমস্যা হচ্ছে? প্রশ্ন করুন। নির্দিষ্ট কোনও অধ্যায়ের ব্যাখ্যা দরকার? জানতে চান। কোনও যুক্তির ভিত্তি কী? সেটিও জিজ্ঞাসা করা যাবে। গুগলের দাবি, জেমিনির উত্তর তৈরি হবে সংশ্লিষ্ট বইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এবং প্রয়োজন হলে উত্তরের সঙ্গে বইয়ের নির্দিষ্ট অংশের উল্লেখও থাকবে।
অর্থাৎ সাধারণ কোনও ওয়েবসাইট থেকে উত্তর খোঁজার বদলে, পাঠক চাইলে প্রশ্নের উত্তর সীমাবদ্ধ রাখতে পারবেন নিজের বেছে নেওয়া বইয়ের ভিতরের তথ্যের মধ্যেই।
তবে জেমিনির কাজ শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ায় আটকে থাকছে না। বইয়ের বিষয়বস্তু ব্যবহার করে তৈরি করা যাবে তথ্যচিত্র, শ্রাব্য সারাংশ, প্রশ্নোত্তরমালা কিংবা পরিকল্পনা। একাধিক বই এবং নিজের ব্যক্তিগত নথি একই নোটবুকে এনে তাদের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণও করা যাবে।
ধরা যাক, পরিচালনাবিষয়ক কোনও বই পড়ছেন। বইয়ের পরামর্শ এবং নিজের কর্মক্ষেত্রের তথ্য একসঙ্গে নোটবুকে রেখে কঠিন কোনও কথোপকথন কী ভাবে সামলাবেন, তার একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন। আবার স্বাস্থ্যবিষয়ক বইয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত দিনলিপি যোগ করে বইটির পরামর্শ নিজের পরিস্থিতির সঙ্গে কতটা মেলে, সেটিও বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
প্রাথমিক পর্যায়েই এক লক্ষেরও বেশি ই-বই এই সুবিধার আওতায় এসেছে। অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের মধ্যে রয়েছে ব্লুমসবারি, ডি গ্রুইটার ব্রিল, জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি প্রেস, ম্যাকমিলান, ও’রেইলি মিডিয়া এবং পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস।
তবে আপাতত সব বইয়ের জন্য এই সুবিধা মিলছে না। প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত ইংরেজি ই-বইতেই ‘এক্সপার্ট ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহার করা যাবে। কোনও বই এই সুবিধার আওতায় রয়েছে কি না, তা গুগল প্লে বুকসে বইটির বিবরণ পাতায় থাকা ‘টুলস’ চিহ্নে ক্লিক করে দেখা যাবে। সেখানে ‘জেমিনি নোটবুক’ অপশন থাকলে বুঝতে হবে বইটি যোগ করা সম্ভব।
ব্যবহারের প্রক্রিয়াটিও বেশ সহজ। জেমিনি নোটবুক এবং গুগল প্লে বুকসে একই গুগল অ্যাকাউন্টে লগ ইন করতে হবে। নতুন নোটবুক খুলে ‘অ্যাড সোর্সেস’ থেকে প্লে বুকস বেছে নিলেই ব্যবহারযোগ্য বইগুলির তালিকা দেখা যাবে। যেসব বই এই সুবিধার জন্য এখনও যোগ্য নয়, সেগুলিও তালিকায় দেখা যাবে, তবে নিষ্ক্রিয় অবস্থায়।
কেনা বইয়ের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভাড়া নেওয়া বইও নোটবুকে যোগ করা যাবে।
তবে কপিরাইটের বিষয়টি মাথায় রেখেছে গুগল। কোনও নোটবুক অন্যের সঙ্গে শেয়ার করলেও সহযোগীরা সংশ্লিষ্ট বইয়ের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু ব্যবহার করতে পারবেন না। তাঁদের নিজেদেরও বইটির কপি কিনতে হবে। তা না হলে বইটি তাঁদের নোটবুকে অনুপলব্ধ থাকবে।
গুগলের পরিকল্পনা অবশ্য এখানেই থামছে না। ভবিষ্যতে জেমিনি অ্যাপ এবং গুগল সার্চের ‘এআই মোড’-এও ‘এক্সপার্ট ইন্টেলিজেন্স’ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তৃতীয় পক্ষের চাঁদাভিত্তিক প্রকাশনা, ব্যবসায়িক গবেষণা প্রতিবেদন এবং পাঠ্যপুস্তককেও ধীরে ধীরে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা জানিয়েছে গুগল।
বই পড়ার অভিজ্ঞতাটা তাই বদলাতে চলেছে। আগে পাঠক বই খুলে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেন।
এ বার বইটাই যেন পাল্টা বলবে—“কী জানতে চাও?”
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।