প্রতিবেদন: ভারতীয় মহিলা হকিতে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন গোলরক্ষক সবিতার। ২১ সেপ্টেম্বর জাপানে এশিয়ান গেমসের ইন্দোনেশিয়া ম্যাচে তিনি বন্দনা কাটারিয়ার ৩২০ ম্যাচের সীমা অতিক্রম করেন। হকি ইন্ডিয়া এই অর্জনের স্বীকৃতিতে দশ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। ৩৬ বছরের গোলরক্ষকের জন্য এটি দীর্ঘ আন্তর্জাতিক জীবনের নতুন মাইলফলক; দলের জন্য অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতার একটি দৃশ্যমান সংখ্যা।

সবিতা আগের দিন উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে বন্দনার রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন। ভারত সেই ম্যাচে জেতে ১৯–০ গোলে। ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে পরের ম্যাচে জয় আসে ১৭–১ ব্যবধানে। ফলে ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিনটিও দলের বড় জয়ের সঙ্গে যুক্ত হল। তবে বিপুল ব্যবধানে জেতা এই দুই ম্যাচে গোলরক্ষকের কাজের পরিমাণ দিয়ে তাঁর গোটা কেরিয়ারের গুরুত্ব মাপা যাবে না।

হকি ইন্ডিয়ার বর্তমান বিবৃতিতে সবিতার সিনিয়র আন্তর্জাতিক অভিষেকের বছর ২০০৯ বলা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে প্রো লিগ ম্যাচে তিনি তিনশো আন্তর্জাতিক ম্যাচ পূর্ণ করেন। তখন বন্দনার পরে দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা হিসেবে ওই সীমায় পৌঁছেছিলেন। গোলরক্ষকদের মধ্যে নারী–পুরুষ মিলিয়ে পি আর শ্রীজেশের পরে দ্বিতীয় ভারতীয় ছিলেন তিনি। সে সময়ের সরকারি ও স্বাধীন প্রতিবেদন এই অগ্রগতির নথি রাখে।

তিনশোতম ম্যাচের আগের একটি সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে অন্য ধরনের তথ্য উঠে এসেছিল। প্যারিস অলিম্পিকে ভারতীয় মহিলা দল যোগ্যতা অর্জন করতে না-পারার পরে খেলা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন সবিতা। প্রশিক্ষক হরেন্দ্র সিং তাঁকে চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন। ২০২৫ সালের ওই অভিজ্ঞতা বর্তমান রেকর্ডকে নতুন অর্থ দেয়: দীর্ঘ কেরিয়ার সব সময় বিরতিহীন আত্মবিশ্বাসের ফল নয়।

সবিতার আন্তর্জাতিক জীবনের বড় অধ্যায় টোকিয়ো অলিম্পিকে ভারতের চতুর্থ হওয়া। ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী দলের নেতৃত্বও দেন তিনি। একই বছর প্রথম মহিলা নেশনস কাপের শিরোপাজয়ী ভারতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। এই অর্জনগুলি রেকর্ড ম্যাচসংখ্যার সঙ্গে গুণগত প্রেক্ষাপট যোগ করে; শুধু দীর্ঘদিন দলে থাকা নয়, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব নেওয়ার ইতিহাসও রয়েছে।

বন্দনার সঙ্গে তুলনাটির সীমাও পরিষ্কার রাখা দরকার। একজন স্ট্রাইকার, অন্যজন গোলরক্ষক—তাঁদের কাজের সাফল্য এক পরিসংখ্যানে ধরা যায় না। সর্বাধিক উপস্থিতির তালিকায় সবিতা এগোলেও বন্দনার গোল বা আক্রমণাত্মক অবদানের মূল্য কমে না। বরং একই সময়ে শুরু করা দুই দীর্ঘ কেরিয়ার ভারতীয় মহিলা হকির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বকে প্রতিনিধিত্ব করে।

রেকর্ডের পরে হকি ইন্ডিয়াকে দেওয়া বক্তব্যে সবিতা পরিবার, প্রশিক্ষক ও সতীর্থদের অবদানের কথা বলেছেন। বন্দনা মানদণ্ড উঁচু করেছিলেন বলেও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। নিজের নাম তালিকার শীর্ষে উঠলেও অর্জনকে একক মালিকানার বিষয় করেননি। তরুণ গোলরক্ষকেরা যেন এমন দীর্ঘ পথের সম্ভাবনা দেখতে পারেন, সেই আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

তাঁর তিনশোতম ম্যাচটি নিছক আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি ছিল না। ২০২৫ সালের নেদারল্যান্ডস ম্যাচে ভারত পিছিয়ে থেকেও ২–২ করে, পরে শুটআউটে ২–১ জেতে। ফেমিনার সেই সময়ের প্রতিবেদনে সবিতার অবদান উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন মাইলফলক বোঝার সময়ে এই পুরনো ম্যাচটি প্রাসঙ্গিক, কারণ সেখানে উপস্থিতির সংখ্যার সঙ্গে সরাসরি ফল নির্ধারণের ভূমিকাও যুক্ত ছিল।

বিশ্লেষণ: খেলোয়াড়ের দীর্ঘায়ু উদ্‌যাপনের সময়ে তার পেছনের ব্যবস্থাটিও দেখা দরকার। প্রশিক্ষণ, চোট সামলানো, নির্বাচনের প্রতিযোগিতা এবং মানসিকভাবে ব্যর্থতা পার হওয়া—প্রতিটি স্তরে সহায়তা লাগে। সবিতার ফিরে থাকার সিদ্ধান্তের পুরনো বিবরণ এই কারণেই প্রাসঙ্গিক। রেকর্ডটি শুধু বয়সের বিরুদ্ধে জেতা নয়; অনিশ্চয়তার মধ্যেও খেলার অর্থ খুঁজে পাওয়ার ফল।

তবে অভিজ্ঞতার সম্মান এবং ভবিষ্যৎ দল তৈরি পরস্পরের বিকল্প হওয়া উচিত নয়। তরুণ গোলরক্ষকদের প্রস্তুতি ও ম্যাচের সুযোগ দরকার, আবার প্রবীণের বর্তমান সামর্থ্যও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। দশ লক্ষ টাকার পুরস্কার অর্জনকে স্বীকৃতি দেয়; দীর্ঘমেয়াদে তাঁর অভিজ্ঞতা প্রশিক্ষণে কাজে লাগানো আরও বড় উত্তরাধিকার হতে পারে। আপাতত সবিতা নতুন রেকর্ডের মালিক, এবং চলতি প্রতিযোগিতায় তাঁর কাজ এখনও শেষ হয়নি।