হাইলাইটস
- ডিএমকের ‘জেন-জেড’ শাখার সমন্বয়কারী এ. অন্বানান্থমের আগাম জামিনের আর্জিতে স্বস্তি দিল না মাদ্রাজ হাইকোর্ট।
- মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়কে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের পোস্টকে ‘গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমালোচনার সীমা অতিক্রম’ বলে মন্তব্য আদালতের।
- বিচারপতির পর্যবেক্ষণের পরই আগাম জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করেন অন্বানান্থম।
- আদালতের পর্যবেক্ষণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমাহীন নয়।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়কে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট করে আইনি বিপাকে পড়লেন ডিএমকের ‘জেন-জেড’ শাখার সমন্বয়কারী এ. অন্বানান্থম। তাঁর আগাম জামিনের আবেদনে অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিতে অস্বীকার করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণের পর শেষ পর্যন্ত নিজের আবেদনই প্রত্যাহার করে নেন তিনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে করা একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং এক চলচ্চিত্র অভিনেতাকে নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই পোস্টের ভিত্তিতেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয় এবং অন্বানান্থমের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। সম্ভাব্য গ্রেপ্তার এড়াতেই তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন।
শুনানিতে একক বেঞ্চের বিচারপতি সি. কুমারাপ্পন মন্তব্য করেন, সংশ্লিষ্ট পোস্টকে কোনওভাবেই সাধারণ রাজনৈতিক সমালোচনা বা নিরীহ মন্তব্য বলা যায় না। তাঁর পর্যবেক্ষণ, এটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমালোচনার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং সমাজের বিবেককেও আঘাত করেছে।
বিচারপতি আরও বলেন, আবেদনকারীর আচরণ থেকে মনে হচ্ছে তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমাহীন অধিকার বলে মনে করছেন। কিন্তু সংবিধান প্রদত্ত এই অধিকারও আইনের নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রয়োগ করতে হয়। ব্যক্তিগত আক্রমণ, অবমাননাকর ভাষা বা মর্যাদাহানিকর মন্তব্যকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে লুকিয়ে রাখা যায় না বলেও আদালত স্পষ্ট জানায়।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর অন্বানান্থমের আইনজীবী আগাম জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি চান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি নিষ্পত্তি করে। ফলে তদন্তকারী সংস্থা এখন আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক মাধ্যমের ভাষা ও আচরণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, আদালতের এই পর্যবেক্ষণ সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পর্যবেক্ষণ শুধু একটি মামলার জন্য নয়, সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। আদালত কার্যত মনে করিয়ে দিয়েছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপ্রকাশের অধিকার মৌলিক হলেও তা কখনওই মানহানি, ব্যক্তিগত কটূক্তি বা মর্যাদাহানির ছাড়পত্র নয়।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।