হাইলাইটস:
- টিভিকে (TVK)-র বিধায়ক এন. এলাইয়ারাজার দাবি, সরকার ভাঙতে তাঁকে ৩৫ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
- অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
- অভিযুক্তদের একাংশের সঙ্গে ডিএমকের যোগসূত্র থাকার অভিযোগ ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
- মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের সরকারকে অস্থির করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে উত্তপ্ত তামিলনাড়ুর রাজনীতি।
- বিরোধীরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে।
বাংলাস্ফিয়ার: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন করে বিস্ফোরণ ঘটাল সরকার ভাঙার চেষ্টার অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রায় দু’মাসের মাথায় তাঁর দল তামিলাগা ভেত্ত্রি কাঝগম (টিভিকে)-র এক বিধায়ক দাবি করেছেন, সরকার ফেলার উদ্দেশ্যে তাঁকে দলত্যাগের জন্য ৩৫ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী বিধায়ক এন. এলাইয়ারাজা জানিয়েছেন, শুধু অর্থের প্রলোভনই নয়, তাঁকে নানা ধরনের চাপ ও ভয় দেখানোরও চেষ্টা করা হয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা প্রস্তাবে তাঁর ভোটের অবস্থান বদল করানোর লক্ষ্যেই এই যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
বিধায়কের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।
এলাইয়ারাজার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন থিরুনাভুক্কারাসু নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল ডেমোক্রেটিক স্ট্র্যাটেজিস (IPDS) নামে একটি জনমত সমীক্ষা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেন। পরে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের একটি বড় রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতার অনুরোধেই তিনি এই যোগাযোগ করছেন।
বিধায়কের অভিযোগ, সেই কথোপকথনের সময়ই তাঁকে জানানো হয়, যদি তিনি টিভিকে ছেড়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন, তবে তাঁর জন্য ৩৫ কোটি টাকার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও সুবিধার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ডিএমকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, তদন্তে ধৃত কয়েকজনের সঙ্গে ডিএমকের কিছু নেতার যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও ডিএমকের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের বক্তব্য, সরকারকে রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলতেই ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেনের সম্ভাব্য তথ্য এবং ডিজিটাল যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তদন্তে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব যাতে না পড়ে, সেই বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পরে তামিলনাড়ুর রাজনীতি এখনও অস্থিরতার পর্যায়ে রয়েছে। নতুন সরকারকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে যদি সত্যিই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কেনাবেচার চেষ্টা হয়ে থাকে, তবে তা শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপরও বড় আঘাত।
বিরোধী দলগুলিও ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। তাদের বক্তব্য, অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এর সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার, যাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের অবসান ঘটে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সরকার গঠন ও সরকার ভাঙাকে কেন্দ্র করে ঘোড়া-বেচাকেনার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। ফলে তামিলনাড়ুর এই ঘটনাও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচিত বিধায়কদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে সরকার বদলের চেষ্টা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে।
এখন নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে। গ্রেপ্তার হওয়া তিন অভিযুক্তের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন কোনও রাজনৈতিক নাম উঠে আসে কি না, অথবা ৩৫ কোটি টাকার প্রস্তাবের নেপথ্যে কোনও বড় চক্র সক্রিয় ছিল কি না, তার উত্তরই ঠিক করবে এই বিতর্ক কতটা গভীরে পৌঁছাবে। ততদিন পর্যন্ত তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই অভিযোগই যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে থাকবে, তা বলাই যায়।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।