লগইনসদস্যতালেখক
হোম›ভারত›২৯ এপ্রিলের ভোট ঘিরে কমিশনের যুদ্ধপ্রস্তুতি: রেকর্ড বাহিনী, প্রযুক্তির চোখ
ভারত

২৯ এপ্রিলের ভোট ঘিরে কমিশনের যুদ্ধপ্রস্তুতি: রেকর্ড বাহিনী, প্রযুক্তির চোখ

বাংলাস্ফিয়ার: মঙ্গলবার রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গে নামবে ভোটের দ্বিতীয় তরঙ্গ। ২৯ এপ্রিল সাতটি জেলা এবং কলকাতায় ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই ভোটের সাথে জড়িয়ে আছে রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণের শেষ অধ্যায়।…

২৯ এপ্রিলের ভোট ঘিরে কমিশনের যুদ্ধপ্রস্তুতি: রেকর্ড বাহিনী, প্রযুক্তির চোখ
বাংলাস্ফিয়ার: মঙ্গলবার রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গে নামবে ভোটের দ্বিতীয় তরঙ্গ। ২৯ এপ্রিল সাতটি জেলা এবং কলকাতায় ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই ভোটের সাথে জড়িয়ে আছে রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণের শেষ অধ্যায়। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই এমন এক নিরাপত্তা-বলয় তৈরি করেছে, যাকে অনেকে ‘যুদ্ধপ্রস্তুতি’ বলছেন।

বাহিনীর মোতায়েন: রেকর্ড সংখ্যা

দ্বিতীয় দফার ভোটে মোট ২,৩৪৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে — যার মধ্যে রয়েছে সিএপিএফ, ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন এবং অন্যান্য রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ ইউনিট। এর পাশাপাশি থাকবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের কর্মীরা। রাজ্যের নির্বাচনের ইতিহাসে এবারই প্রথম এত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী একসাথে মোতায়েন হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি বাহিনী যাচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনায় — ৫০৭ কোম্পানি। তার পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৪০৯ কোম্পানি নিয়ে। এই দুই জেলার বিস্তৃত সীমান্ত এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীলতাই এই অগ্রাধিকারের কারণ।

সীমান্তে বিশেষ নজরদারি

বাংলাদেশের সাথে অরক্ষিত সীমান্ত এলাকায় বিশেষ স্ক্যানিং চলছে। বিএসএফ সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং সেসব এলাকায় নাকা চেকিং-এর তীব্রতাও অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবন অঞ্চলে, যেখানে দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তৃত উপকূলীয় সীমানা রয়েছে বাংলাদেশের সাথে, সেখানে উপকূলীয় টহল জোরদার করা হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় নজরদারি প্রথম দফার চেয়ে বেশি

প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ৪৫,০০০ বুথে ভোট হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় ছয়টি জেলা ও কলকাতায় ১৪২টি আসনে ভোট হবে প্রায় ৪০,০০০ বুথে। আসন ও বুথের সংখ্যা কম হওয়ায় প্রতিটি বুথে নিরাপত্তার ঘনত্ব আরও বাড়বে। দ্বিতীয় দফায় পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ৯৫, যা প্রথম দফার ৮৪ জনের চেয়ে ১১ জন বেশি।

বুথে প্রযুক্তির চোখ

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে অন্তত দুটি করে ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং সরাসরি ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি বুথ থেকে সরাসরি ভিডিও পর্যবেক্ষণ করা হবে। ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট মেশিন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সামনে প্রদর্শন করা হয়েছে। নামিবিয়া, জর্জিয়া, নেপাল, ফিলিপাইনস, সুইজারল্যান্ড ও কেনিয়া থেকে আসা ১৩ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি আইইভিপি-২০২৬ কর্মসূচির আওতায় শিলিগুড়ি কলেজে ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট পাঠানোর প্রক্রিয়া সরেজমিনে দেখেছেন।

ভোটারের নিরাপত্তা: স্লিপ থেকে মোবাইল কাউন্টার

ভোটকেন্দ্রে এবার একটি নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে — ভোটকেন্দ্রের গেটে যত জন ভোটার লাইনে থাকবেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাথে নিয়ে প্রিসাইডিং অফিসার তাদের হাতে স্লিপ তুলে দেবেন। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না, এবং বুথের সামনে মোবাইল কাউন্টার রাখা হবে যেখানে ভোটাররা ফোন জমা রেখে ভোট দিতে পারবেন।
ভোটারদের নির্ধারিত পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্লিপ সংগ্রহ করে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ রাখা হবে এবং ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটার এলাকার মধ্যে আলাদা ক্যাম্প রাখা যাবে না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর: এআই-নির্মিত ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অশান্তি ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও বা গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। ডিজিটাল প্রচারণার যুগে এই পদক্ষেপকে বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

কঠোর হুঁশিয়ারি

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটে কোনো ধরনের হাঙ্গামা, বুথ দখল বা জাল ভোটের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
২৩ এপ্রিলের প্রথম দফার ভোটে কোনো বড় সংঘাতের খবর আসেনি। সেই পটভূমিতে কমিশন আশাবাদী যে দ্বিতীয় দফাও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ঠা মে। রাজ্যের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ই মে।
রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তখন স্পষ্ট হবে। তবে তার আগে, ২৯ তারিখ সকাল সাতটায় যখন বুথের দরজা খুলবে, তখন লক্ষ লক্ষ ভোটার দেখবেন — তাদের চারপাশে শুধু ব্যালটের গণতন্ত্র নয়, আছে কয়েক হাজার কেন্দ্রীয় জওয়ানের নিরাপত্তা-বেষ্টনীও।​​​​​​​​​​​​​​​​
বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

পাঠকের মন্তব্য ০

শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।

এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।